চলচ্চিত্রের ৭০০ কোটি টাকার বন্ঠন প্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত

ডেস্ক এডিটরডেস্ক এডিটর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১৫ PM, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে ৭০০ কোটি বরাদ্দ করতে যাচ্ছে সরকার। এমনটি খবর জানিয়েছেন চলচ্চিত্রের নেতারা।

এ অঙ্গনের ক্ষুদ্র একজন অংশীদার হিসেবে আমার দাবি থাকবে ৭০০ কোটি ফান্ডের মেয়াদ যেন কমপক্ষে ৫ বছর থাকে।

৭০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকা সিনেমা হল উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হোক। সিনেমা হল উন্নয়নের ক্ষেত্রের আগের ভালো মানের ৭০টি সিনেমা হলের তালিকা করা হোক। যে হলগুলোর জন্য ৫০-৬০ লাখ টাকা (এর বেশি লাগার কথা না, আমার অভিজ্ঞতা বলে) করে বরাদ্দ করা হবে। এ টাকা দিয়ে তারা হলের সিট, ডলবি সাউন্ড সিস্টেম, টু কে অথবা ৪ কে প্রজেক্টর মেশিন, বাথরুম ও এসি সংস্কার করবে।

২০০ কোটির বাকি ১২০-১৩০ কোটি টাকা দেওয়া হোক ৩০-৪০ টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের জন্য। কারণ দর্শকরা সাধারণ সিনেমা হলের চেয়ে সিনেপ্লেক্সে যেতে বেশি পছন্দ করবে।

৫-১০ কোটি টাকা দিয়ে সেন্ট্রাল সার্ভার সিস্টেম ও ই-টিকেটিং বসানো হোক। এতে করে একজন প্রযোজক পাইরেসির হাত থেকে তার ছবিকে অনেকাংশেই রক্ষা করতে পারবে এবং তার আয়ের ৯৯% পর্যন্ত সঠিক হিসেব পাবে। ১% সিস্টেম লস আজীবন থেকেই যাবে। সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বক্স অফিস নামক একটা শব্দ ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি পাবে এবং ১০০% অথেনটিক হবে। হুট-হাট কোন প্রযোজক-পরিচালক ব্লকবাস্টার উপহার দিতে পারবেন না।

বাকি ৫০০ কোটি টাকার ৩০০ কোটি টাকা রাখা হোক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য। একজন নবীন প্রযোজক বা পরিচালক যেনো তার ছবিকে বন্ধক রেখে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অভিজ্ঞ পরিচালক ও প্রযোজকদের ক্ষেত্রে একই শর্তে ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হোক। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এর সুদের হার যেন ১ থেকে ২ শতাংশই থাকে, মেয়াদ ২০-২৫ বছর থাকে।

কারণ সিনেমায় না থাকলে শুধু হল দিয়ে কী করবেন? বিদেশি সিনেমা চালানোর জন্য হল সংস্কার করার কোন মানে হবে না, যদি না দেশি সিনেমা বন্ধ হয়ে যায়।

আর বাকি থাকে ২০০ কোটি টাকা। এ টাকার ১০০ কোটি টাকা এফডিসির জন্য বরাদ্দ রাখা হোক। যদিও এফডিসির জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে সরকারের। এ ১০০ কোটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এফডিসি যত প্রকার যন্ত্রপাতি দরকার তা আনা এবং টেকনিশিয়ানদের তাতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।

সবশেষ ১০০ কোটি টাকা দিয়ে ভালো চলচ্চিত্রগুলোর প্রচার প্রসারের জন্য সরকারিভাবে কিংবা প্রযোজক সমিতির তত্ত্বাবধানে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম করা যেতে পারে। এখন থেকে কিছু টাকা দিয়ে সিনেমাগুলোর প্রচারণায় ব্যয় করবে প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি।

যেহেতু টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সহজে বাংলা ছবির প্রচার করে না ‘বিনোদন সংবাদ’-এর বাইরে। তাই কয়েকটি চ্যানেল বা নির্দিষ্ট একটি চ্যানেলের সঙ্গে প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি চুক্তি করতে পারে সিনেমার গান, ট্রেলার ও অন্যান্য অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য। এ চুক্তি হবে টাকার বিনিময়ে এবং তা ব্যয় হবে সরকারি তহবিল থেকে প্রযোজক ও পরিচালক সমিতির তত্ত্বাবধানে।

লেখক-
চলচ্চিত্র পরিচালক
আহমেদ জামান সিমুল

আপনার মতামত লিখুন :