ইরানের পাওনা টাকা ৪০বছর পর ফেরত দিতে রাজি হল যুক্তরাজ্য

ডেস্ক এডিটরডেস্ক এডিটর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৮ PM, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

অনেক দিন আগের কথা। যখন ইরানে এমন এক শাসক ছিল যে পশ্চিমাদের কথায় উঠতো, বসতো। তখন পশ্চিমা শাসকরা ইরানকে ইচ্ছামত নাচাতো, আর ইরানের পুতুল সরকারও হেলেদুলে নাচতো। ইরানের সেই নির্লজ্জ শাসকের নাম ছিল রেজা শাহ পাহলভি। যিনি ১৯৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর ইরানের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। তার শাসনামলে তিনি সবসময় পশ্চিমা শাসকদের অধিক প্রায়োরিটি দিতেন। বিশেষ করে তাদের কাছে অত্যন্ত সুলভ মুল্যে তেল সরবরাহ করতেন।

রেজা শাহ পাহলভির সময়ে ১৯৭১ সালে ইরান যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি ট্যাংক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যেই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাজ্য ইরানকে ১৫০০ এর অধিক ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যানবাহন সরবরাহ করবে। কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবী আন্দোলনের ফলে পশ্চিমা সমর্থিত শাসক রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হলে ইরানের নতুন শাসক হন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। রেজা শাহ পতনের ফলে ট্যাংক চুক্তিও বাতিল করে লন্ডন। কিন্তু চুক্তির সময় যুক্তরাজ্যকে অর্থ পরিশোধ করেছিল ইরান। পরবর্তীতে ১৯৮০-৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য ইরাকের শাসক সাদ্দাম হোসেনের কাছে সেই ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যানবাহন বিক্রি করে।

যুক্তরাজ্য চুক্তি বাতিল করলেও অর্থ কিন্তু তারা ঠিকই নিয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ৪০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা)। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই অর্থ ইরান সরকারকে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। কিন্তু ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও লন্ডন এতদিন তা অস্বীকার করে আসছিল। ২০০৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক আদালত ইরানের পক্ষে রায় দেয়। তাতে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের কাছে ইরানের বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। ব্রিটেন এতদিন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পরও ইরানকে অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাজ্য।

অবশেষে গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ব্রিটেন স্বীকার করেছে যে, ইরান তাদের কাছে বিপুল অংকের অর্থ পায়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, লন্ডনের কাছে ইরানের পাওনা রয়েছে। তারা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে আইনি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন ঘটনা ঘটলো যে, যুক্তরাজ্য ইরানকে অর্থ পরিশোধ করবে। মুলত ২০১৬ সালে ৩ এপ্রিল ব্রিটিশ ও ইরানি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী নাজানিন জাগারি র‍্যাটক্লিফকে গ্রেফতার করে ইরান৷ গ্রেফতারকৃত এই নারী টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনে চাকরি করতেন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ছুটি কাটাতে ইরানে আসেন তার পরিবারের সাথে দেখা করতে। পরে লন্ডন ফেরত যাওয়ার সময় ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নাজানিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি এমন কতকগুলো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করছেন, যেগুলো ইরান সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে। তাই গ্রেফতারের পর তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদিকে নাজানিনের গ্রেফতারের পর থেকে তার মুক্তির জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে লন্ডনে। শেষমেষ ব্রিটিশ সরকারও বাধ্য হয় নাজানিনের মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যেতে।

মুলত নাজানিনকে দ্রুত খালাস করতে এই প্রথমবার যুক্তরাজ্য ইরানের ঋণের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এবং ইরানকে ঋণ পরিশোধ করে নাজানিনের মুক্তি প্রক্রিয়া গতিশীল করবে লন্ডন এমনটাই বলেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। এদিকে ইরান আবার ভিন্ন কথা বলছে, তারা জানিয়েছে যে নাজানিনের মামলার সঙ্গে পাওনা টাকার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু অপরদিকে যুক্তরাজ্য মনে করছে হয়তো পাওনা টাকা দিলেই একমাত্র নাজানিনকে দ্রুত মুক্তি করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন :